Friday, December 23, 2011

Poetry 4 of Series 2

#

৪.

গোলাপী রং ভালবাসতে বলে দুধে ফেলছি বিষ আলতা
এমনসময় হঠাত নিজেই হাতে তুলে নিলে বিষাক্ত তীর
শুন্য বুকে হাত রাখতে রাখতে দেখলাম
দূর থাকে সাপের খোলসের মতো তুমি
জন্ম-দিনের রাত্রিতে আড়াআড়ি ভাবে আছ সুয়ে
তোমার পাশে নতুন সাথী দখল নিয়ে আমার জমি 
বন্ধুর শত্রুতা পেয়ে শত্রুর বন্ধুত্ব চাওয়াটা হয়ত দস্তুর
সহমরণের তাপে জ্বলে যায় যত ছিল শরীরী সুখ ll 

Wednesday, December 21, 2011

Poetry 3 of Series 2

#

৩.

সেদিন সারাদিন স্নায়ুতে ছিল তোমাকে মাথায় করে রাখা
সোনাঝুরিতে নিসর্গ দ্যাখো, গীতাঞ্জলিতে সিনেমা দ্যাখো, দ্যাখো নাট্ট্যঘর
সামনে আসীন নক্ষত্র, দুটি হাত তার কি তুলতুলে গরম
পাশে বসে থেকে দেখেছি ভালোবাসার ঘুমন্ত মুখ
নরম কোলের ওপর সুন্দর ওই বুকের স্পন্দন ,
ছায়ায় জ্বলে উঠা চোখ আর চোখের স্থির দৃষ্টিতে জ্বলন্ত মুখ ll   

Monday, December 12, 2011

Poetry 2 of Series 2

 #
২. 


তুমি মৌন মৌচাক! আকৃষ্ট আমি মৌমাছি 
হঠাত বিকেলটা দেয়ালে পিঠ দিয়ে সার্কাসের বিজ্ঞাপনের মতো 
হওয়া এসে উড়িয়ে দিল ছোট্ট ছোট্ট চুল 
অসহায় গলায় বলি  - এ কি রকমের ইয়ার্কি ?
তুমি বললে - এই খেলাটা ফুরোলে আমাকে নতুন খেলা সেখাবে l 
তরুণ নই, বালক নই, ভালবাসাও জানি না -  
আমাকে তুমি শিখিয়েছিলে সর্বনাশা খেলা 
সুন্দরের নখের মধ্যে ছুরি, ধারালো দাঁত - 
লুকিয়েছিল, বুঝিনি আমি প্রেম না ভালোবাসা
জেনেছি শুধু উষনতার শীতল পরিণতি
শয্যাসুখে কেটেছিল দুপুর, তবুও কেন জানি না
বিষন্ন কিছু শব্দে, আজও কানে বাজে তোমার নুপুর ll 

Sunday, December 11, 2011

Poetry 1 of Series 2



#
১.

কিছুই করে না মুগ্ধ, আশ্চর্য সুন্দর তুমি !
আলোচনা কর কত কিছু - ঠোঁটের মুচকি হাসির মতো;
শেষ বিকেলের মরা আলোয় বাংলা কোচিঙে প্রথম দেখা,
তারপর থেকে ঝুলবারান্দার নিচে দাঁড়িয়ে কিশোর:
মাঝে মাঝে বাড়ির গ্রিলের আড়ালে ভেসে উটছে মুখ,
স্চ্কুলছাত্রী তোমার মতো চঞ্চল একটি তারাও দেখিনি;
অনেক মেঘই হেসে হেসে গেল ভেসে, ফাঁকি দিয়ে চাঁদকে l

Thursday, December 8, 2011

Poetry 15 of Series 1

#
১৫.


আলোর নীচে নীল অন্ধকার মৃত্যু 
ডুবে যাওয়া অতীত, শহর-বন্দর
ভেসে ওঠে যা কিছু রয়েছে অবশিষ্ট লিথ-ও-গ্রাফী 
যেন শেষ বিচারের জন্য জাদুঘরে অপেক্ষা করে পোকায় কাটা মমি
আমি নই ফ্যারাও-এর উত্তরসুরি, হতে চাইও না মমি 
তবু আপশোষ, আমার নিজের কোনো নাই লিথ-ও-গ্রাফী 
ধীরে ধীরে আমাকেও গিলে খাবে নীল অন্ধকার 
বিস্মৃতির নীল আঁধার থেকে আমি দেখব আমার উত্তর প্রজন্ম
পোকায় কাটা মমি ও আমার কালো আঁচর কাটা খাতা তারা জাদুঘরে রাখে ll

Wednesday, December 7, 2011

Poetry 14 of Series 1

#
১৪. 


নীরিশ্বরবাদ বড়ই জটিল 
মাথাভাঙ্গা অলংকৃত মন্দির, বিগ্রহ বিহীণ সিল করে দেওয়া গর্ভগৃহ
বা সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়া মূল মন্দিরও একই কথা বলে
সুধু অনুপম পুরাকৃতির অবশিষ্টটুকুই কি নিয়ে আসে এই ঝড়
ভাঙা মূর্তি বা রথচক্র সূর্য দেবের আজও  অমলিন 
মিথুনরত ভাস্কর্য খোদাই করা দেয়ালে খুজলে পাওয়া যায় শৈসব-কৈশোর-যৌবন
স্বভাব অনুযায়ী অতীতকে ভুলে থাকার চেষ্টা করাই যায় 
তবু পাঁচহাজার বছরের ভাঙাচোরা স্থাপত্য তো বিগ্রহই
নতজানু হয়ে বসি তার সামনে আর অবাক বিস্ময়ে দেখি
আমাদের ঐতিয্য ও তার ভবিষ্যত ll

Sunday, November 27, 2011

Poetry 13 of Series 1

#
১৩. 


কবি সমালোচকের আলোয় বা আলোহীন জ্যোতিষ্ক সবগুণাতীত পুরুষের জটা ধরে বিশিষ্টতা পায় 
সারা বছর সেই জ্যোতিষ্কের ষোলোকলার অন্তত একটিকে ধরে রেখে বিশিষ্ট চন্দ্রভাগা
তবু রয়ে গেছে তার প্রশান্ত স্নিগ্ধ বুক উন্মুক্ত করে
নিন্দুকে বলে নষ্ট সে, তবু রসিক জনেরা জানে তার কথা
পাগল ব্যক্তি বিশেষ শেষপযর্ন্ত তার প্রেমে মজে ডোবে চোরাবালিতে
রাত্রিশেষে সাইন বোর্ডে লেখা হয় বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ - এখানে স্নান করা নিষেধ ll

Saturday, November 26, 2011

Poerty 12 of Series 1

#
১২. 


পিছলে পড়া আলোর আদরে,
মৃদু উষ্ণতায়, উচ্ছৃঙ্খল শব্দে বন্দী আকাশ 
কিছু পলকা পালক উড়ে আসে তাদের ডানার ঝাপটে 
ভাগ্যবানেরাই পায় তার ডানার ঝাপট - এই বিশ্বাস আজ রয়ে গেছে 
সন্ধেবেলায় সূর্য যখন লাল 
তারা দ্বীপে ফিরে যায়, হয়ত বিশ্রাম করে 
সারাগায়ে মেখে নিয়ে সবুজ-মেকআপ l

Friday, November 25, 2011

Poetry 11 of Series 1


#
১১.


লেগুণ লেগুণ তুমি কার, রতনাকর রক্তের সম্পর্কে 
চত্ব একফালি সবুজ ধ্যানমগ্ন ডুবে থেকে নীলের ভিতর 
টাকার মূল্য খুবই কম ডলারের কাছে
বহুজাতিক উত্সবময়তা কুঁড়ে কুঁড়ে খায় কৌম ধারণা 
বেচারা লেগুণ, বহুজাতিক-আন্তর্জাতিক রাহুর দৃষ্টিতে ক্ষয়ে যেতে থাকে 
বদলে যেতে থাকে তার রাসায়নিক চরিত্র, নীল রক্ত  সবুজ হয়ে যায়
কৌম তখন দূরে দাঁড়িয়ে ঠোঁট কামরায় আর প্রতিক্ষা করে 
একসময় বিস্ফোরণে প্রভুদের ঘুম ভাঙে
অমৃত পানের পরই রাহুর মাথা কাটা হয়
কৌম ফিরে পায় তার যুগ-যুগের অর্জিত জ্ঞানের অধিকার 
লেগুণ লেগুণ তুমি কার, রতনাকর রক্তের সম্পর্কে ll

Wednesday, November 23, 2011

Poetry 10 of Series 1

#
১০.


শেষ যেদিন তোমাকে নিয়ে বেড়াতে যাবো প্রীয়তমা 
তোমাকে কিনে দেব ওয়াইন কালারে ছাপানো কটকি আকাশটাই 
উপহারের জন্য নিয়ে নেও ধোওয়া ধোওয়া ভেসে আসা নীল সাগর 
তারপর?
দুজনে গিয়ে বসবো কটকি আকাশ ও নীল সাগরের সঙ্গমস্থলে
হাঠতই তোমার সারা শরীরের রক্ত এসে জমা হবে গালে কানে সারা মুখে 
বড়ই চেনা শোনা একান্ত আপন রাতগুলির উত্তেজনায় বন্ধ হয়ে যাবে আমার হৃথপিন্দ্ড
তারপর?
দুইজনে জন্মকালীন পোশাকে সুধু ফেনাময় বিছানায় শুএযাবো
ধীরে ধীরে তোমার ও আমার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেবে দুপেগ ওয়াইন
স্বর্গদ্বারে সেই আরামের ঘুম ও আমার প্রীয়তমাগো দেখো যেন না ভাঙে l

Tuesday, September 27, 2011

Poetry 9 of series 1

৯.
আমরা কি রান্নাঘরটি দেখতে চাই না
হ্যা আমরা  অবস্চয় চাই 
দূর থাকে দুরপাল্লার বসে গদি গদি করে আসা মানুষেরা উত্তর দেয়
একটাকার বিনিময়ে তাদের সেই সৌভাগ্য প্রদান করা হলে
তারা দেখে তিন তালা প্রকান্ড ঘরে কয়েক সাত লোক
ও বারোসো হাঁড়িতে প্রভুর জন্য শোরসপচারে রান্না হচ্ছে 
আমরা কি অন্ন ভোগ খাতে চাই না 
না আমরা চাই 
দূর থাকে দূর পাল্লার বসে গাদা গদি করে আসা মানুষেরা ততটা প্রত্যয় পাই না
যত টাকার বিনিময়ে তাদের সেই সৌভাগ্য প্রদান করা হবে প্রভু তাদের আদৌ ততটা সৌভাগ্য দেন নি 
 তাই তারা সুধু রান্না ঘরটি দেখে - বাইরের ঘুল ঘুলি থাকে রান্নার উনিক পদ্ধতি দেখে
রান্না ঘর থেকে হায়দ্দ্রেনে বয়ে আসা ভাতের ফ্যান ও ডালের স্রোত দেখে 
দেখে শুকনো থট চাটে আর যাবার আগে প্রভুর নামে জয়ধনী দেয়.  
  

Wednesday, September 21, 2011

Poetry 8 of Series 1

#

৮.

পাঁচ বছরের বেশী বয়স্ক শিশুরা ফাস্ট-ফুড খেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলে 
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: 'পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষদ্ধ'
রেলিং-এর ফাঁকগুলো বেয়েরা রকমের বড়
ফাস্ট-ফুড পোষ্য শিশুদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি উচ্চারিত শব্দেই থাকে 
আগে-পিছে মাত্র শ'দেড়েক লোক
যে সরু পথ বেয়ে উপরে উঠলে প্রভুর দেখা মেলে সেই পথ সংগত কারণেই বন্ধ 
কেবল গুলা পায়রাগুলই বকম বকম করতে করতে জানায় সমবেদনা
পান্ডাদের শক্ত বাহু শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখে ভক্তদের
কেও বা পান্ডা কলকাতার তো কেও বীরভুম-মুর্শিদাবাদের 
ক্রমশ ভারী হয়ে আসে বাতাস - প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়স্করা যে যার স্বভাবসুলভ চেচিয়ে ওঠে 
ঘড়িতে সকাল দশটা-কুড়ি, আর দশমিনিট  পরে প্রভুর খাদ্য গ্রহণ
আজকের মতো বিনা-ভেটে প্রভুকে দর্শণ করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট 
বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের চঞ্চল হয়ে উঠে নাড়ী.
স্বর্গের দরজা চিরদিনের মতো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যেন শত শত আদমের আর্তনাদ 
'খোল খোল দরজা খোল, প্রভু .................................'
দশটা-বাইশ - হঠাত-ই খুলে যায় সিনহ দরজা 
অধীর উত্তেজনায় মাতোয়ারা মানুষ দিগবিদিগ ভুলে চেঁচিয়ে ওঠে 
'জয় প্রভু, জয় প্রভু ............................ দেখা দাও প্রভু'
শহর বাঁচাতে বর্ষাকালে ড্যামের ছেড়ে দেওয়া গ্রীষ্মের জল যে উল্লাসে গিলে খাই গ্রাম-বাংলা 
সেই উল্লাসে পিছনের জনতার স্রোতে খর-কুটো ভেসে যায় সামনের মানুষেরা 
চড়া স্রোত-ও তয়রি হয় কিছু যুবক ও তাদের অস্থির পেশী শক্তির আস্ফালনে 
আপত্কালীন তথ্পরটাই গড়ে তলা সরকারি বালির বাঁধ পুলিশের ঢাল নিমেষে উবে যায় 
শেষ-পর্য্যন্ত চোখ মেলে তাকাবার সুযোগ যদি যায় পাওয়া 
ঝটিকা বন্যার পর পরে থাকা কিছু ভাঙা-চড়া বিধস্ত বাড়ি-ঘরের মতো 
মানুসের মলিন মুখ ও করুন চোখের ভান্সা পড়ে
ততোধিক উল্লাসে চিত্কার করা যায় - 'জয় প্রভু, জয় প্রভু............দেখা দিলে প্রভু, আমি ধন্য'.

Wednesday, June 22, 2011

Poetry 7 of Series 1


#
৭.

আগুনটা উস্কাবার দরকার নেই
বেশ জ্বলছে
দূর শালা মরেও সবাইকে জ্বালাচ্ছে
শরীর ভর্তি জল
আরে না না মার লাঠির বাড়ি
কার্বন ঝরে যাবে
একসাথে প্রশান্ত মহাসাগরের
অগ্নেও মেখলা
একসাথে চোদ্দটা ভোজের
উননে আগুন
কয়েকজন ভিখারীমানুষ
গরম হল্কা 
সর্গদ্বারে এসে বসে থাকা 
গভীর অপেক্ষায়
ধর্মরাজার বহন সঙ্গ দেয়, খায়
আগুনের উচ্ছিষ্টাংশ 
কেবল একটি কিশোর নীল চোখে
সমুদ্রের জল 
কেবল একটি তরুণীর ফর্সা সিঁথিতে
সমুদ্রের ফেনা 
আগুনটা উস্কাবার দরকার নেই
বেশ জ্বলছে..

Poetry 6 of Series 1

#
৬.

কেন যে পাগল হলে
গিললে আবর্জনা রাশি রাশি
সুদিনের আলেয়া আলোয় 
মনেরই আপন ভুলে তুলে নিলে
ক্রুদ্ধ কুঠার সংস্কার বেবাকভূলে
কুঠারের মুখই ভোঁতা 
দূর ছাই তাতে তাতে কি হবে
সে ঠিকই পালিয়ে যাবে 
তোমার মুখে ছাই ছিটিয়ে 
খুঁজে পেতে নিজের মানুষ
করলে তো প্রচুর ভরং
ফকিরও মুখ বেকায় এখন তোমায় দেখে 
তুমি তবু মুচকি হাসো 
হেসে ভাবো লোক ঠকালে  
আজও খোজ মনের মানুষ 
তীর্থের নোংরা তলে..

Monday, June 20, 2011

Poetry 5 of Series 1

#
৫. 

ভাঙা টিউবলাইট                        ল্যাম্প পোষ্ট
ল্যাম্প পোষ্ট                             মলিন শাড়ি
মলিন শাড়ি                             চঞ্চল  চোখ.


ফাঁকা ডাস্টবিন                         ইউজ মি আর্তি 


ইউজ মি আর্তি                          মলিন শাড়ি
ল্যাম্প পোষ্ট                             কাকের বাসা
কাকের বাসা                            ভাঙা টিউবলাইট..

Poetry 4 of Series 1

#
৪. 
 
বিষন্ন বিবর্ণ দুপুর
দূর থেকে দেখি সামনে এক চত্ব অটাকামা
বাতাস এসে এলোমেলো নকশা এঁকে গেছে বালির বুকে
আরেকটু এগিয়ে দেখি - এক নুলিয়া - রদ্ফাতা সাদা টুপিতে লেখা নম্বর নয়


ইতস্তত বিক্ষিপ্ত উত্তল পিঠের কচ্ছপের মতো কালো ত্রিপলে বাঁধা পসরা
সমুদ্র তার চ্যালেন্জ জানিয়ে ফিরে যাচ্ছে বারে বারে
নিজের একাকিত্বকে দিনের উজ্জ্বল - আলোয় দেখার এমন সুযোগ কখনো হয়নি আগে
এমনকি আমার সঙ্গী হতে রাজী হয় না একটি পাখীও


ক্রমশ সময় বাড়ে, ডিউটি শেষে ঘরে ফেরার তাড়া তারাদেরও থাকে, স্পষ্ট্য বোঝা যায়
হঠাত হিন্দী গানের সদর্পিত চিত্কার ও শাঁখের আওয়াজের আহ্ববানে চোখ মেলে দেখি
চারিদিকে বসে গেছে আনন্দের হাট - পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা 
রঙিন আলোয় রঙ্গিন মনের জনতাকে আরো বেশী রঙিন লাগে 


ধীরে ধীরে রাতও বাড়ে - ফিকে হয়ে আসে মানুষের ঢল
আর আমি আবিষ্কার করি - যে সমুদ্রের সাথে আড়ি করে শুয়েছিলাম দূরে
সেই সমুদ্রই এসে ঠান্ডা হাতে ছুএছে আমার পা 
আমি বলি - এতক্ষণ চ্যালেন্জ জানিয়ে আবার পা ধরা কেন?


উত্তরে সমুদ্র কেবলই  হাসে
আমি যতই জিগ্গাসা করি -
সে কেবল হাসতেই থাকে, আর দেখি 
সমুদ্র ধীরে ধীরে গ্রাস করছে আমার কোমর, আমার বুক ........


চিত্কার করে উঠি - না আ আ আ আ আ ........
লাফিয়ে উঠে ল্যাজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হই
সসুদ্র তখনও হাসতে থাকে
রাত্রে লেপের তলায় ভয়ে কাঁপতে কাঁপতেও আমি শুনতে থাকি তার শাসন..

Friday, June 17, 2011

Poetry 3 of Series 1


#
৩.

দূর দিগন্তের দিকে এই অবলোকন
সীমানা ছাড়ার হালকা অথচ ছন্দময় স্রোতে
এক অর্ধ সব্চ্চ্ব-চলমান-অবতল-সবুজ আয়না ক্রমে ভেসে যায়
ভেঙে যায় তার রহস্যহীন কাচ, নরম সাদা ফেনা 
পড়ে থাকে সুধু এক-আকাশ নীল
সেইখানে, গারো তলদেশে গোলাপী মুক্তর খোঁজে ডুবুরীর সলিল সমাধি
এরকমই ক্লান্ত করেছে শরীর, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসময় উত্থান-পতন
হেমন্তের মায়াবী বাগানের গল্প মনে হতে পারে
অতর্কিত ঝান্ঝাই যখন সামান্য হাঁসির কোণে সম্পূর্ণ প্রস্তুত মেঘ
দুরে-উড়ে-ঘুরে-ঘুরে এক টানে খুলে ফেলে স্নানের পোষাক
আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর পায়ের নিচে সরিয়ে যায় বালি 
দু'চোখে ঘনিয়ে তোলে অতি-নীল-জল-আঁধার - 
গোলাপ শরীর ছেঁকে দু'ঠোঁটে লাগিয়ে রাখে ওয়াইন-কালার
মুহুর্তের বজ্রপাতে ঝলসে ওঠে সবুজ রহস্যহীন আয়না 
সন্ত্রাস তাড়িত মার্সেডিজই শুধু ছোটে উদ্ভ্রান্ত-আকাশ-রাস্তায়, একা.. 

Thursday, June 16, 2011

Poetry 2 of Series 1

#
২. 

শূন্যে উজ্জ্বল আত্মপ্রকাশ 
আবির্ভাবের সময় থেকে দেবতা বলে মানা
উপসাগরের তীরে সাত-সকালে তাকে না-পাওয়া আঁধার
তা যদিও কমে অস্থিরতা বাড়ে
সৈকতে চটুল হিন্দী গান আর মিলে-মিশে একাকার শাঁখের আওয়াজ
হঠাতই বেড়ে যাই নারী-পুরুষ অনুপাত
এক অদ্ভুত কবষ্নতা, সুখ-সুখ ভাব সকলের শরীর ও মনে
আনন্দপাঠশালা, শিশুদের মুখে চামচ, চামচে মার্বেল
মার্বেল তলা দেখার সৌভাগ্য সকলের হয় না 
-একথা সুখশিকারীদের বোঝার জন্য নয়.
নীলের শরীরে ছিঁটে-ফোঁটা রক্তের দাগ
'সুখ-সুখ'-রা আঁতকে উঠলো - গুপ্ত হত্যা সপ্তাহের জন্য কারফিউ
ছিন্ন-ভিন্ন শরীরে অনেকটা সরে হিন্দী সিনেমার হিরো উঠে দাঁড়িয়েছেন
ভক্ত - চেঁচিয়ে উঠলেন - 'পূর্ণ দেখা দিলা ভগবান! জয় ভগবান.'..

Poetry 1 of Series 1

#
১. 


শিশুর মায়ের মতো কখনো ঐতিহ্য বড়ই সচেতন 
সময়ের সাথে লড়তে লড়তেও মেলে ধরে নিজেকে
কখনো কখনো সে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টায় খন্ড-বিখন্ড
রুক্ষ বুকের উপর স্নিগ্ধ যুগলরতন
অর্ধনারীশ্বরের অপরিহার্য দুটি আত্মার মতো অপরিহার্য হয়েও রয়ে যায়
সুপ্রাচীন অতীতের রামায়ন-মহাভারতের স্মৃতি নিয়ে
অবতার পুরুষের বিখ্যাত ভক্তের দল অগৌরবে আজও বর্তমান 
বিশ্বাসী আনন্দ পায় অবিশ্বাসিও কষ্ট পায় না 
এইরকম খন্ডিত হৃদয়ে আরেক আত্মা আজও দাঁড়িয়ে আছে
উদয়ের পথে নিজেকে উজার করে দিয়ে রসিক জনের কাছে অপরিহার্য হয়ে..

Sunday, June 12, 2011

Poetry 10

ডিম-লাইটের ওপরে দেখেছ?
কতদিন ধরে, হয়ত আবহমান কাল সে বসে আছে
লক্ষ করেছি তার প্রতিটি পেশির স্পন্দন
শুনেছি তার নিঃশব্দ পদচারণা আলোটির ওপর.
সরিয়ে দিতে গিয়া হাত-ই রক্তাক্ত হয়েছে শুধু
পোকাটা রয়েই গেছে.


কাজের যে মায়েটি রুমাল হাতে করে আসে
সেও কেন যেন ভুলে যায় সেই কবেথেকে
স্থির ভাবে এক কনে থাকা ডিম-লাইটটার কথা
সে কিন্তু ভোলে নি, স্থিতপ্রজ্ঞ মুনির মতই
সে প্রেতসমাধিতে লীন, জটা জালে বন্দী ডিম-লাইট
ক্ষীণ থাকে ক্ষীণ হয়েছে শুধু তার আলোটুকু
কিন্তু পোকাটা রয়েই গেছে.


সেই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণ আলোতে 
লিখতে কষ্ট হলেও লেখাতো যেত
আজ অন্ধকারে নেই কাজ
হয়ত এই ভালো পোকাটিকে খোজা 
কাজে-অকাজে সময় কাটানোর চেয়ে. 
তার অস্তিত্ব অন্ধকারের নিশ্ছিদ্র মখমলে 
হাতড়াতে হাতড়াতে হাত-ই রক্তাক্ত হয়েছে শুধু 
পোকাটা রয়েই গেছে..

Poetry 9

বৃষ্টি পড়ে
বৃষ্টি থেমে যায়
তৃস্নার্ত চাতক বোবা হলে কোকিলের গান সোনা যায়.

ঘুম পায়
ঘুম ছুটে যায়
বিনিদ্র রাত্রিতে স্বপ্ন ও ঘুম একাকার হয়ে যায়.

আলো জ্বলে 
আলো নিভে যায় 
অন্ধকারের ছায়ায় পৃথিবী মায়াময়, বোঝা যায়.

সে আসে
সে চলে যায় 
শুধু স্মৃতিটুকু সম্বল তৃষ্ণার্ত-বিনিদ্র-অন্ধকার..

Thursday, June 9, 2011

Poetry 8

অসুখ - জেনো এক ঘুমছুট রাত 
কখনো বিধি ভেঙে শোনায় গান
রাস্তায় আরো স্পষ্ট হয় কুকুরের ডাক 
ঘুমন্ত পাহারাদার বা ভাঙা টিউবলাইট জান্তব সত্যি
মাঝে মাঝ্হে সুধুমুধু চমকে দিয়ে চলে যায় ট্রাক 
নাইট লাম্পের এল ও মাকড়সার জাল একাকার 
মাঝে আম্ঝে সবপ্নে সুধু ভাবি আধবন্ধ চোখে  
আসলে আমি এক অন্ধকার লোক
আসলে অসুখের চোখে ঝাপসা-ধুসর আলো দরকার 
পর্যাপ্ত জলেরও খুব প্রয়োজন আজ 
সকাল মানেই হারিয়ে যাওয়া - এক থেকে অসংখ্য ডাক্তার..

Poetry 7


আমার একটি কামরার রাজত্বে দুটি মাত্র জানালা 
কোনো কোনো ঠান্ডা রাত্রে ঝড়ো হওয়া আসে,
একটা জানালা বন্ধ করলে অন্যটি থরথর করে কাঁপে;
তাই তখন দুটি জানালায় বন্ধ করতে হয়.
আর তার পরেই হুইসেল বেজে ওঠে.
বোঝা যাই না এমন গতিতে চলে যায় বারোটার ট্রেন.
এর পরের মুহুর্তটাকেই আমি সব থেকে ভয় পাই,
দুই জানালায় ঘসা কাচে ভেসে ওঠে দুই নারীর ছায়া শরীর..

Poetry 6

টিকটিকিরা আসলে ঘুলঘুলির বাসিন্দা.
দিনের বেলায় বেরোনোর সাহস তাদের নাই;
তবুও তারা যে আছে শব্দে বোঝা যায়.
শব্দই ব্রম্ভ আর তারা ব্রম্ভো জ্ঞানী.
ঠিক ঠিক সময়ে তারা টিকটিক করে বেজে ওঠে.
যেন আদি কালের ঘড়ি সময় না বুঝে অবুঝ শিশুর মতো কাঁদে.


টিকটিকিরা আসলে ঘুলঘুলির বাসিন্দা.
তোমার মাথার উপর পড়লে, রাজা থুড়ি মন্ত্রী হতেই পার.
তবে যেহেতু তারা দিনের বেলায় অন্ধকারে,
মাথায় চড়ে ডান বা বাম কোন দিকে গেল ভেব না.
আজকে ভাববার সময় নেই, চুপ-চাপ করো কাজ;
যেন না আমাদের দেশটা পৃথিবীতে নেই,
টিকটিকির মতো তৃতীয় বিশ্বের মাথায় চড়ার অপেক্ষায় আছে.


টিকটিকিরা আসলে ঘুলঘুলির বাসিন্দা. 
তাই ঘুলঘুলিটা পরিষ্কার কোর না,
কারণ সবাই জানে টিকটিকির শরীর ময় বিষ.
ঝাড়ু হাতে ঠাই দাঁড়িয়ে থাক ঘুলঘুলির নীচে. 
আশ্চর্য এই যে আমরা রাজা বা মন্ত্রী না হয়ে,
দিনেদিনে কেমন যেন টিকটিকি হয়ে যাচ্ছি.
আমরা তো টিকটিকি হতে চাইনি..

Monday, June 6, 2011

Poetry 5

রাস্তার কুকুরগুলো রং বদলাচ্ছে 
মেলানিসম-এটা কী মেলানিসম!
কেও আমাকে উত্তর দেয় না
আগে কত রং ছিল - সাদা, লাল, খয়েরী
যদিও অধিকাংশই ছিল মিশ্র রঙের
-উদ্যান বিদ্যার উপহারের মতো
বর্ণালী জানে না কালো রঙের কথা 
সাতটি রঙের বিসুধ্তা একসাথে নষ্ট হলে কালো বলে
আশ্চর্য আজ রাস্তার অধিকাংশ কুকুরের রং কালো
দিনের বেলায় তাদের দেখামেলে সামান্যই
যদি না কোনো অভাগা বা বেপারার কুকুর এসে পড়ে
রাত্রিতে তারা যথেষ্ট সক্রিয় - গন্ধে বোঝা যায় 
চুপচাপ থাকতে হয় কিছুটা সময়
গন্ধটা নাকে সয়ে গেলে দেখি
উচ্ছিষ্টের অপেক্ষায় অন্ধকারে কয়েক জোড়া চোখ.

Saturday, June 4, 2011

Poetry 4

আমার নিজের আয়নাতে আমি রোজ নিজের মুখ দেখি 
রোজ রোজই নিজের মুখটি কেমন যেন বদলে যায়
কোনো কোনো দিন এতই বদলে যায় যে ভয় পাই 
আজ আমি নিজেই নিজের বিবিধ মুখ দর্শনে
বুঝতে পারি না - আমি কাকে ভয় পাই 
নিজের মুখ না নিজের আয়নাকে

আমার যদি দশটা মুখই হবে
আয়না আমাকে দশানন দেখায় না কেন
আয়না বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে তা বিশ্বাস যোগ্যে নয় 
তবুও পিছন থেকে কেও বলে - লোকটা পাঁচফোরং
পাঁচ মুখে পাঁচ রকমের কথা বলে
তাহলে আয়না আমারি পক্ষে আমারি বিরোধিতা করে 

ভেঙে ফেলতেই টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে কাচ
তার সাত সহস্র টুকরোর এক একটা টুকরোতে দেখা যায়
এক এক রকমের বিকৃত মুখচ্ছবি 
তা দেখায় আমি হেঁসে উঠি এরকমও ভাবি
রাস্তার মানুষেরা আমাকে চিনতে পারে নি .

Friday, June 3, 2011

Poetry 3

রাতের অন্ধকারে 
সাদা আলোর গন্ধে নেশা লাগলে 
আতুর কিছু পোঁকা আমার ঘরে আসে 
দিনের আলোতে 
ছায়ার রসে বুঁদ হয়ে 
দুটি চড়াই পাখী আমার ঘরে আসে 
পোঁকারা আসে নেশা করে মরতে  
পাখীরা আসে পোঁকা খেতে 
এভবেই রোজকার দিনলিপী লেখা হয় 
আর পাখীরা পাখীই পোঁকারা পোঁকাই.
 

Thursday, June 2, 2011

Poetry 2

নীল রঙের ট্রেনে কালো দিগন্তের দিকে 
যেতে যেতে কখনো কখনো সময় থমকে দাঁড়ালে
চেন্নাই প্লাটফর্মে দুরন্ত বালিকার রহস্যময় চোখ
ও ছওয়া ছুই-ই খেলা চোখে পড়ে
যা কখনো কখনো স্বর্গ রাজ্যের অধরা স্বপ্ন বলে মনে হয় 
গতিময় প্লেনের কিছু ছেঁড়া খোঁড়া মডেল
হাওয়াই মেলে দিলে পাখা 
সেই বালিকা হাততালি দেয়,
লাফায়, আনন্দে খিলখিলিয়ে হাসে 
সময়ের কাছে অসহায় পথিকের 
গড়ে তোলা কোনো নতুন ডানা মেলা স্বপ্ন
তার হাতে তুলে দিলে নীল থাকে গারো নীল
 হয় তার চোখ 
ছেঁড়া আর্ট পেপারের টুকরোয় লিখে দেয় 
আপনার যাত্রা হোক শুভো হোক

Wednesday, June 1, 2011

Poetry 1

কিনারাগুলো ভাঙ্গে প্রান্ত থেকে দূরে
ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে মিলিয়ে যায়
আনুপাতিক দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকে কিছুটা সময় 

সময়ের সাথে সাথে অনুপাতও বদলায়
কখনো বারে কখনো কমে 
কিনারাগুলো ভাঙ্গে প্রান্ত থেকে দূরে

যে দেখছে ভাঙছে সে নিজেও ভাঙছে 
ভাঙা ভাঙা ভাঙা 
আধখাওয়া এক চাঁদও পূর্ণিমাতে জাগে 

কে গড়ে, কেন গড়ে, আর গড়েই বা কোথায়!
শুধু আনুপাতিক পরিবর্তন ও তার অপরিবর্তিতা
কিনারাগুলো ভাঙ্গে প্রান্ত থেকে দূরে

আশ্চর্য এই ভাঙা পৌছতে পারে না মাঝখানে
দেশ ছাড়ার পূর্বে বৈরাগী সমুদ্র বা নদীতে দেখে ভাঙা ভাঙা দেশ
কিন্তু তবুও সে দেশ ছেড়ে যায়, যায় আর দেখে
কিনারাগুলো ভাঙ্গে প্রান্ত থেকে দূরে
ভাঙতে ভাঙতে পার একদিন নদী খেল খেত-খামার-গ্রাম
ভাঙতে ভাঙতে সাগরের পার সুএজের খালও এলো 
তবুও ভাঙার অপরিসীম গতিময়তা আজও চিত্কার কোরে বলে 
কিনারাগুলো ভাঙ্গে কিনারাগুলো ভাঙ্গে
কিনারাগুলো ভাঙ্গে প্রান্ত থেকে দূরে.